হাতীবান্ধায় স্বামীহারা জুলেখা ছাগল পালন করে ভাগ্যে বদলের স্বপ্ন দেখছেন

Share This
Tags

newsbdn

লালমনিরহাট নিজস্ব প্রতিবেদক: ছাগলের আর এক নাম ব্ল্যাক বেঙ্গল গ্রাম এলাকায় এখন ছাগল হয়েছে গরীবের ভাগ্যে বদলের সুপথ আর এই সুপথ ধরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ সিংগিমারী তেলী পাড়া গ্রামের স্বামীহারা জুলেখা বেগম এখন ভাগ্যে বদলের স্বপ্ন দেখছেন। উন্নত জাতের ছাগল ব্ল্যাক বেঙ্গল পালন করে জুলেখা বেগম স্বল্প সময়ে এলাকায় ব্যক্তিক্রমি উদাহারণ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। আর জুলেখার ব্যক্তিক্রমি উদাহারণে ছাড়া পড়েছে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে। অনেকে স্বচ্ছল পরিবারগুলোতে ছাগল পালন দেখে তারাও পৃথক পৃথক ভাবে ছাগলের খামার করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সরেজমিন সূত্রে জানাগেছে, ঐ গ্রামে মৃত দিন মজুর তোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু শেখের ২য় স্ত্রী জুলেখা বেগম। জায়গা জমিন সহায় সম্বল কিছুই ছিল না বাচ্চু শেখের এমতাবস্থায় প্রথম স্ত্রী জোবেদা বেগমের ঘরে ৪ ছেলে ও ২য় স্ত্রী জুলেখা বেগমের ঘরে ১ ছেলে ১ মেয়ে রেখে ১৯৮৫ ইং সালে মৃত্যু বরণ করেন। এ সময় প্রথম স্ত্রী পাশেই নিকটবর্তী বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন, ২য় স্ত্রী জুলেখা বেগম বাবার বাড়ি দুরবর্তী ও অসহায় হওয়ায় থেকে যায় মৃত স্বামীর আস্থানায়। কিন্তু একমাস গত হতে না হতে জীবিকা নির্বাহে নেমে আসে সীমাহীন দুর্ভোগ, শুরু হয়ে অসহনীয় জীবন যাপন। যা দেখে দয়া হয় তৎকালীন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আফতাব হোসেনের। জুলেখাকে পিয়ন দ্বারা অফিসে ডেকে নিয়ে দুইশত টাকায় মাসিক ভাতায় অস্থায়ীভাবে অফিস ঝাড়–দার পদে নিয়োগ দেন। জুলেখা শিশু ছেলে ও মেয়েকে রেখে জীবন যুদ্ধে যোগদান করেন মৎস্য অফিসে ঝাড়–দার পদে। নিয়মিত সকালে অফিস ঝাড়– দেন এরই ফাঁকে পাশাপাশি অপর এক ব্যাংক কর্মচারীর বাসায় ঝি’র কাজ করেন। সেখানে দু বেলা খেয়ে ৩ শত টাকা মাসিক ভাতা পান। এরই মাঝে ইউপি চেয়ারম্যান একখানা বিধুবা ভাতা কাড দেন। সবে মিলে জুলেখার সংসার চলে এমতাবস্থায় একদিন জনৈক হোটেল ব্যবসায়ী আঃ রশিদ জুলেখাকে ছাগল পালনের পরামর্শ দেয়। যদিও রশিদ হোটেল ব্যবসায়ী সেদিকে না ভেবে জুলেখা তার পরামর্শ মতে ৭শত ৫০ টাকা দিয়ে দুটি ছাগল ক্রয় করেন। সে থেকে ছাগল পালনের সুত্র হয়। পরবর্তীতে শিশু ছেলে ও মেয়ের ন্যয় ছাগলকেও লালন পালন করতে থাকে জুলেখা। এরপর থেকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি জুলেখাকে। পর্যায়ক্রমে তার উপার্জিত অর্থ জমায় মেয়ে আঞ্জুমানাকে পাত্রস্থ করেন। আর ছেলেসহ জোরে সোরে ছাগল পালনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ফলে বেড়ে যায় সংসারের আয় । প্রতিদিন সকালে খেয়ে না খেয়ে যে ভাবেই থাকুকনা কেন তার শিশু ছেলে আর ছাগল নিয়ে বেড়িয়ে পরে চলে যান উপজেলা পরিষদ মাঠে। ছাগল আর ছেলেকে মাঠে রেখে মৎস্য অফিসে ঝাড়– দেন এবং পরে ব্যাংক কর্মকর্তা বাসায় ঝি’র কাজ করেন। এভাবেই সংসার চলতো জুলেখার । শনিবার এ প্রতিনিধির সাথে কথা হলে জুলেখা জানায়, স্বামীর অবর্তমানে অসহায় জীবনে শতকষ্ট আর দুঃখ সহ্য করে আসছি, এখন আল্লাহ ফিরে দেখেছে, তাই ৪ শতাংশ জমি খরিদ করে থাকার জন্য বাসা বেঁধেছি। এখন ইনশাহআল্লাহ কেটে গেছে সেই অহায়নীয় কষ্ট। ছাগল পালনের ইতোমধ্যে অসংখ্য ছাগল বিক্রি করেও মেয়ে পাত্রস্থ , জমিন ক্রয় করার পরও এখনো ১৬টি ছাগল রয়েছে। জুলেখা আরও জানায় দীর্ঘদিন যাবত এভাবেই নিজ উদ্যোগে ছাগল পালন করে আসছি দু:খের বিষয় স্থানীয় প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর কোনরুপ সহযোগিতা করেন নি। সরকারি সাহায্যে ও সহযোগিতা পেলে আরও আগেই সফল হতাম।

আপনার মন্তব্য লিখুন