নাটোরে ট্রাজেডি দিবস,শোকে কাতর সিধুলী গ্রাম, দূর্ঘটনায় প্রতিবছর ঝড়ে যাচ্ছে শতাধিক মানুষের প্রান

Share This
Tags

শাকিল আহমেদ,নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাজেডি দিবস আজ।সে দিনের দূর্ঘটনায় শোকে কাতর সিধূলী গ্রাম।ছোট বড় সড়ক দূর্ঘটনায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে প্রতিবছরই ঝড়ে যাচ্ছে শতাধিক মানুষের তাজা প্রান।

জানা গেছে,২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর বিকেলে বড়াইগ্রামের রেজুরমোড়ে সিরাজগঞ্জগামী অথৈই পরিবহনের সাথে রাজশাহীগামী কেয়া পরিবহনের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে প্রান যায় ২০ জনের।পরে আশপাশের হাসপাতালে নেওয়ার পরে এবং আহত অবস্থায় মৃত্যুর সাথে লরাই করে বেচে থাকতে থাকতে নিহত হয় আরো কয়েক জন। মোট ৩৮ জনের মৃত্যু হয় স্মরনকালের ভয়াভহ সেই দূর্ঘটনায়।আহত হয় আরো অর্ধশতাধিক।নিহতদের মধ্যে ছিলো গুরুদাসপুরের সিধূলি গ্রামের একই পরিবারের ৬ জন।সেদিনের স্মৃতি মনে হলে আজো আতকিয়ে ওঠে মন, ভারি হয়ে ওঠে সিধূলি গ্রামের পরিবেশ, শরীরের লোম সিউরে ওঠে বড়াইগ্রামবাসীর।দূর্ঘটনার ২ বছর হলেও এখনো নিহতদের স্মরনে নির্মান হয় নি কোনো স্মৃতি স্তম্ভ।সড়ক দূর্ঘটনা রোধে তেমন কোনো পদক্ষেপো চোখে পড়ে নি স্থানীয়দের।একের পর এক প্রায় প্রতিনিয়তই ঘটে যাচ্ছে ছোট বড় দূর্ঘটনা।

এদিকে উত্তরবঙ্গের এই মহাসড়কে ঝুকিপূর্ন বাক,যানবাহনের বেপোরোয়া গতি ও ওভারটেকিং এর প্রতিযোগীতাকে দূর্ঘটনার কারন বলে মনে করছেন বিশিষ্টজন ও স্থানীয়রা।বড়াইগ্রাম পৌর সভার প্যানেল মেয়র জালাল উদ্দিন জানান,ঝূকিপূর্ন বাকগুলো সোজা করা হলে দূর্ঘটনা রোধ হবে বলে তিনি আশাবাদি।সেই সাথে মহাসড়কটি দ্রুত চারলেনে উন্নীতকরনেরও দাবি জানান তিনি।স্থানীয় সাংবাদিক আসাদুল ইসলাম আসমত জানান,দূর্ঘটনা প্রবন এলাকাগুলোতে চালকদের যানবাহনের গতি সর্বনি¤œ রাখতে হবে।ফিটনেস বিহীন গাড়ি মহাসড়কে চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে,ওভারটেকিং এর প্রতিযোগীতা না দিয়ে মহাসড়কটির বিভিন্ন স্থানের মারাতœক ঝুকিপূর্ন বাকের জায়গাগুলোতে সতর্কতার সহিত গাড়ি চালালে দূর্ঘটনা নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।একই সাথে রেজুরমোড়ে সেই দূর্ঘটনার স্মৃতি ধরে রাখতে দ্রুততর একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানেরও দাবি জানান সে।এছাড়াও,অপ্রাপ্ত ও লাইসেন্স বিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়ারো দাবি জানান স্থানীয়রা।

তবে হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছেন,ফিটনেস বিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত আছে।এছাড়াও অপ্রাপ্ত ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় বলেও জানান হাইওয়ে পুলিশ।

এদিকে আবার জেলা প্রসাশক মোছাঃশাহিনা খাতুন জানান,আগে থেকেই ৭টি ঝূকিপূর্ন বাক নির্ধারন করা হয়েছিলো।পরে আরো ৬টি বাক নির্ধারন করে সড়ক ও জনপথ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।ঝূকিপূর্ন এই বাকগুলো সম্প্রসারন করা হলে দূর্ঘটনার পরিমান কমে যাবে।

সড়ক দূর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অতিদ্রুত বাস্তাবায়ন করা হলে কমে যাবে দূর্ঘটনার পরিমান,মহাসড়কে হারাতে হবে না মানুষের প্রান।নিরপাদ হবে চলারপথ।এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

আপনার মন্তব্য লিখুন