লামায় আবারও সর্বনাশা তামাকের ঘ্রাস

Share This
Tags

tamak

লামা(বান্দরবান) প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা-আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রায় ৮ হাজার তামাক চাষি সরকারী সংরক্ষিত বনাঞ্চলসহ ফসলের জমিতে তামাক চাষ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে জমিতে তামাক চারা রোপন শুরু করেছে চাষিরা। সুকৌশলী তামাক কোম্পানী গুলো অগ্রিম প্রদানকৃত ঋনের জ্বালে বেঁধে ফসলের জমিতে চাষিদেরকে তামাক চাষ করতে বাধ্য করছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট চাষিরা। লামা বন বিভাগের আওতাধীন বমু ও আলীকদমের তৈন রেঞ্জের সরকারী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মাঝে অবৈধভাবে তামাক চাষ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বন বিভাগের লোক জন।

এদিকে চাষিরা আক্ষেপ করে বলেন, তামাক চাষের জন্য কোম্পানী গুলো স্থানীয় সোনালী ও জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে কোন কাগজ-পত্র ছাড়াই প্রতি একর জমিতে ১৫-২০ হাজার টাকা করে পর্যন্ত ঋণ প্রদান করেন। অথচ ইরি, ব্যুরো, আমন অথবা রবিশস্য উৎপাদনে ব্যাংক থেকে ৫-৬ হাজার টাকার বেশী ঋণ পাওয়া যায়না।

২০১১ সালে তামাক চাষের উপর নিষেধাজ্ঞার আরোপ করে আদালত। ঐ সময় তামাক কোম্পানী গুলো বান্দরবান জজ কোর্টে রিট করার পর স্বল্প আকারে ১০ হাজার একর জমিতে তামাক চাষের জন্য অনুমতি দেয় আদালত। আর এই সুযোগে লামা, আলীকদম, নাইক্ষংছড়ি উপজেলা ও লামার পার্শ্ববর্তী কক্সবাজারের চকরিয়ার বমু বিলছড়ি এলাকার ৮ হাজারের অধিক তামাক চাষি তামাক চাষ করছেন। সরকারী ভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমিতে তামাক চাষের বিরুদ্ধে কোনো প্রদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছেনা বলে বিভিাগীয় বন কর্মকর্তা অসহায়ত্ত্ব প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, লামা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৯৮৩ সালে বিৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানীর সহযোগীতায় লামার বৈল্লারচর এলাকায় পরিক্ষা মূলক অল্প পরিমান জমিতে তামাক চাষ শুরু হয়। এর পরের বছরই (অর্থাৎ ১৯৮৪ সালে) ছড়িয়ে পড়ে লামা উৃপজেলার ৭টি ইউনিয়ন লামার পাশ্ববর্তি আলীকদম, নাইক্ষংছড়ি উপজেলা ও কক্সবাজারের চকরিয়ার বিস্তিন্ন এলাকায়।

দীর্ঘ আড়াই যুগ ধরে স্থানীয় সংরক্ষিত এবং অশ্রেণীভূক্ত বনাঞ্চলের মূল্যবান বৃক্ষ নিধন এবং কৃষকের বাড়ির আঙ্গিনার মূল্যবান বনজ এবং ফলদ গাছ নিধন করে পোড়ানোর কারণে বর্তমানে পাহাড় গুলো বৃক্ষশূণ্য মুরুভূমির দ্বার প্রান্তে। তামাক কোম্পানী গুলোর স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লামা, আলীকদম, নাইক্ষংছড়ি এবং পার্শ্ববর্তী বমু বিলছড়ি এলাকার প্রায় ১৫ হাজার একর ফসলী জমিতে ক্ষতিকর তামাক চাষ করার সকল প্রস্তুতি ইতিমোধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই সকল তামাক প্রক্রিয়া জাত করণের কাজে নির্মাণ করা হয় প্রায় ৫ হাজার তামাক চুল্লি।

তামাক কোম্পানী গুলো তামাক চাষের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চাষীদেরকে বীজ, সার, কীটনাশক, পাওয়ার পাম্প ও প্রয়োজনীয় অর্থ সহ সার্বিক সহযোগীতা প্রদান করলেও তামাক প্রক্রিয়াজাত করণের জন্য তামাক চুল্লির জ্বালানী সরবরাহ করেন না।ফলে চাষীদেরকে তামাক চুলির জ্বালানী কাঠ সংগ্রহ করতে লামা, আলীকদম, নাইক্ষংছড়ি এবং পার্শ্ববর্তী বমু বিলছড়ি এলাকার সরকারের সংরক্ষিত এবং অশ্রেনীভূক্ত বনাঞ্চলের বনজ সম্পদ ধংসের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়।

লামা, আলীকদম, নাইক্ষংছড়ির পাহড়ী এলাকায় কোন গাছ না থাকায় গত বছর তামাক প্রক্রিয়াজাত করনে লাকড়ী এসেছে মায়ানমার ও ভারতের সীমান্ত থেকে।টিএস ট্রাক, টেক্টর, পিকআপ ও ঢলু বাশেঁর ভেলায় করে অবাধে নিয়ে এসে তামাক চাষীদের নিকট বিক্রি করে একটি সিন্ডিকেট। লাকড়ী কাটার জন্য এ সিন্ডিকেটিস্থানীয় চাষি আলী আশ্রাফ জানান, এক বছরে ঋনের বিনিময়ে তামাক দিতে না পরলে পরের বছর তামাক চাষ করে তামাক দিয়ে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হয় তাদের।

বর্তমানে লামা, আলীকদম ও নাইক্ষংছড়ি এবং চকরিয়া বমুবিলছড়ি এলাকায় ১০টি তামাক  কোম্পানী  ব্যবসা করে যাচ্ছে। এর মধ্যে  ব্রিটিশ অ্যামেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানী, আবুল খায়ের ট্যোবাকো, নাসির ট্যোবকো, ঢাকা ট্যোবাকো, রাঙ্গুনিয়া সমিতি ও নিউ এজ ট্যোবাকো কোম্পানীসহ আরও কয়েকটি কোম্পনী রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন