নবী করিম (সা.) অনুসরণযোগ্য আদর্শ !

Share This
Tags

ডেস্ক নিউজ :

http://newsbdn.com

১২ রবিউল আউয়াল শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও মৃত্যুর দিন হিসেবে পরিচিত। বস্তুত দিনটি বিশ্ববাসীর জন্য কেবল জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ স্মরণ নয় বরং নবী করিম (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুকরণ-অনুসরণের মাঝে রয়েছে প্রকৃত সফলতা।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অতুলনীয়, অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি ছিলেন অসাধারণ বিনয়ী, পরোপকারী, সদালাপী সহৃদয়সহ সকল প্রকার মহৎ গুণে গুণান্বিত অনুপম চরিত্রের অধিকারী। শৈশবকাল থেকে মহানবী (সা.)-এর জীবনে এক দুর্লভ ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য পরিস্ফুটিত হয়। দয়া ও ন্যায়পরায়ণতার মূর্ত প্রতীক হিসেবেও নবী করিম (সা.)-এর বেশ সুনাম রয়েছে। দানশীলতা, উদারতা ও বদান্যতায় তিনি ছিলেন অতুলনীয় উদাহরণ। সহনশীলতায় ও ক্রোধ সংবরণে রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বোচ্চ আদর্শের প্রতীক।

কখনও তার পক্ষ হতে মন্দ কথন ও কর্ম প্রকাশ পায়নি, নির্যাতন-অবিচারের শিকার হলেও কখনও প্রতিশোধ নেননি। কখনও কাউকে প্রহার করেননি। সদা চিন্তাশীল, কোমল, শান্ত ও ভদ্র চরিত্রের অধিকারী নবী করিম (সা.) নিয়ামত কম হলেও বেশি মনে করতেন। ব্যক্তিগত বা পার্থিব স্বার্থে আঘাত হলে রাগ করতেন না। আল্লাহর বিধান লংঘিত হলে প্রতিবিধান না করা পর্যন্ত ক্রোধ থামাতেন না এবং ক্ষান্ত হতেন না। হাসির সময় প্রায় মুচকি হাসতেন। এক কথা তিন বার বলতেন। তিন বার সালাম দিতেন। তিন বার অনুমতি চাইতেন।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চরিত্র মাহাত্ম্যের অত্যুজ্জ্বল আলোকমালায় উদ্ভাসিত হয়েছিল আরববিশ্ব তথা সারাজাহান। তাই তো হজরত মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে সংস্কারক, সফল রাষ্ট্রপ্রধান, প্রথম সংবিধান প্রণেতা শ্রেষ্ঠ মহামানব ও মানবতার মুক্তির জন্য আজীবন কঠোর সংগ্রামকারী প্রভৃতি সকল দিক দিয়ে তিনি সবারর জন্যই মডেল।

মুহাম্মদ (সা.) তার ওপর অর্পিত সকল দায়িত্ব পালন করে অসভ্য বর্বর জাতি ও সমাজে একটি শান্তিময় ইসলামি রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন একমাত্র আল্লাহর দেওয়া বিধান ছাড়া মানব রচিত অন্য কোনো বিধানে শান্তি ও কল্যাণ নেই। আজও যদি আমরা রাসূলের প্রতিষ্ঠিত সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারি এবং আল্লাহর দেওয়া বিধান মেনে চলতে পারি তাহলে অশান্ত ও অস্থির বিশ্বে আবার শান্তি ও সুষম সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন