দিনাজপুর জেলা সহ ১৩টি উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার চাতাল বন্ধ ১ লক্ষ শ্রমিকের জীবন মানবেতর দিন কাটছে

Share This
Tags

newsbdn

দিনাজপুর থেকে সিদ্দিক হোসেন প্রতিনিধি: দিনাজপুর জেলা সহ ১৩টি উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার চাতাল বন্ধ ১ লক্ষ শ্রমিকের জীবন মানবেতরে দিন কাটছে। বাংলাদেশে ধানের জন্য বিখ্যাত জেলা হিসেবে দিনাজপুর সকলের কাছে পরিচিত। অনেক আগে থেকেই এ জেলা চাল উদ্ধৃত্ত অঞ্চল হিসাবে খ্যাত ব্যাপক ধান উৎপাদন হয় বলে স্বাধীনতার পর থেকেই আস্তে আস্তে এখানে চাতাল শিল্পের প্রসারি ঘটে। মিল মালিক সূত্রে জানা যায়, জেলায় বর্তমানে ৫ হাজার চাতাল মিল আছে। ৫ হাজার চাতালে লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে যার মধ্যে শতকরা ৬০ভাগ গ্রামের অসহায় মহিলা এবং ৮০শতাংশের বয়স ষাটোব্ধ। নানা সংকটে ৫ হাজার চাতাল এখন বন্ধ হওয়ার পথে। আর এ শিল্পের সাথে জড়িত হাজার হাজার অসহায় নারীসহ লক্ষাধিক শ্রমিক বেকারত্ব বরণের অপেক্ষায় বলে মিল মালিক সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে চাতাল ব্যবসা ঘিরেই দিনাজপুরের অর্থনীতি ছিল রমরমা। এখন অনেক চাতাল রমরমা ব্যবসায়ী লোকসান গুনতে গুনতে রাস্তায় দাঁড়ানোর মহ অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। জানা গেছে গত ৫/৭ বছর ধরেই এ ব্যবসায় চরম মন্দা চলছে। কারণ হিসেবে মিল মালিকরা জানিয়েছে ভারত থেকে অবাধে চাল, গুড়া ও খুদ আমদানি সম্প্রতি জেলায় মোটা মূলধন মালিকদের অটো রাইস মিল করার প্রতিযোগিতা ও মধ্যবৃত্ত ব্যবসায়ীদের মূলধন স্বল্পতা ইত্যাদি। চাতাল মালিকদের অভিযোগ কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে চাল করার পর উৎপাদিত চালের সাথে বাজারের চালের দর মিলে না। উৎপাদিত চালের চেয়ে বাজারে কম দামে চাল পাওয়া যায় ফলে প্রতি লটেই কম বেশী লোকসান গুনতে হচ্ছে চালের দাম। ভারত থেকে অবাধে চাল আমদানি করা হচ্ছে। আমদানি করা এসব ভারতীয় চাল দেশীয় চালের চেয়ে কম দাম ফলে ক্রেতারা ওই চালই কিনছে। এর প্রভাব কৃষকদের উপরেও পড়ছে। দেশীয় চালের দাম ও চাহিদা কম থাকায় কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। চাতাল মালিকদের অভিযোগ নিজের চাতালে ধান থেকে চাল প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে গুড়া ও খুদ অবশিষ্ট থাকতো। এই অবশিষ্ট গুড়া ও খুদ বিক্রি করে কোন রকমে পুষিয়ে নিত চাতাল মালিকরা। সম্প্রতি এই খুদ ও গুড়া আমদানি করা হচ্ছে ভারত থেকে। ফলে দেশীয় খুদ ও গুড়া চাহিদা ও দাম কমেছে আশঙ্কাজনক হারে।

আপনার মন্তব্য লিখুন