Published On: বৃহস্পতি, ডিসে ১৫, ২০১৬

‘সাঁওতালদের ঘরে পুলিশের আগুনে লজ্জা লাগে’

Share This
Tags

2222

নিউজ ডেস্ক-

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম, স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও তা পূরণ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা মানুষের বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল, এখন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সেই একই রকমভাবে সবচেয়ে সবচেয়ে নিরীহ, পিছিয়ে পড়া সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে রাষ্ট্রের পুলিশ। কষ্ট হয়, লজ্জা লাগে এমন অবস্থা দেখে।

রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি।

আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া কোনো কথা বলতেই চান না, তারা গোটা জাতিকে একটা বিকৃত ইতিহাস জানাচ্ছেন।

তিনি বলেন, তরুণ ও যুবক ভাইদেরকে আবেগের সাথে বলতে চাই স্বাধীনতার ৪৫ বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু হতাশার সাথে বলতে হয় মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস আমরা জানি না। যারা মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া কোনো কথা বলতেই চান না তারা গোটা জাতিকে একটা বিকৃত ইতিহাস জানাচ্ছেন। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলাম তারা এই বিকৃত ইতিহাসে ভুলতে রাজি নয়। সেই সমস্ত বই আমাদের পড়া উচিত যেগুলোতে সঠিক ইতিহাস রয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম, স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও তা পূরণ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা মানুষের বাড়ি ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল, এখন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সেই একই রকমভাবে সবচেয়ে নিরীহ, পিছিয়ে পড়া সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে রাষ্ট্রের পুলিশ। কষ্ট হয়, লজ্জা লাগে এমন অবস্থা দেখে।

একই আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে, কিন্তু তারাই তো স্বাধীনতার চেতনাকে বিশ্বাস করে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে গণতন্ত্র। সেই গণতন্ত্রকে আওয়ামী লীগ তাদের বাক্সের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রেখেছে।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন এখন দেশে কোনো রাজনীতি নেই, দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই। দেশে রাজনীতি নেই আছে শুধু একটি দল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছাড়া আর কোনো দলের রাজনীতি নেই।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, কল্যাণ পার্টির সভাপতি মেজর জেনারেল মো ইবরাহিম (বীর প্রতীক), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান, বিশিষ্ট লেখক ও কবি আব্দুল হাই সিকদার প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য লিখুন