Published On: বুধ, ডিসে ২১, ২০১৬

ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬টি গ্রোয়ার্স মার্কেট (কৃষি বাজার) পরিত্যাক্ত

Share This
Tags

newsbdn

ঠাকুরগাঁও থেকে ফিরে এসে সিদ্দিক হোসেন প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন স্থানে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট কোন পাইকারী বাজার নেই। উৎপাদিত পণ্য কৃষক সরাসরি বিক্রির জন্য জেলায় ৬টি গ্রোয়ার্স মার্কেট (কৃষি বাজার) নির্মাণ করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকেই পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে এই ৬টি গ্রোয়ার্স মার্কেট (কৃষি বাজার)। ঠাকুরগাঁও জেলার ৮০ ভাগ মানুষই সরাসরি কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। এ জেলায় প্রায় সকল ফসলই কম-বেশি উৎপাদিত হয়। জেলায় যে পরিমাণ কৃষি পণ্য উৎপাদিত হয় কৃষক সে পরিমাণ উৎপাদিত ফসলের মূল্য পায় না। সেই লক্ষ্যে ২০০৭ সালে এনসিডিপির আওতায় প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলায় ৬টি গ্রোয়ার্স মার্কেট নির্মাণ করে জেলা মার্কেটিং অধিদপ্তর। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকে জেলায় গ্রোয়ার্স মার্কেট (কৃষি বাজার) বর্তমানে ধ্বংসের পথে। উদ্বোধনের পর থেকে এই সব মার্কেট আর চালু হয়নি। আর সরকার চালুর বিষয়ে কোন পদক্ষেপও গ্রহণ করেনি। এছাড়াও মার্কেটগুরো যে স্থানে করা হয়েছে তার আশে পাশে অনেক মার্কেট গড়ে ওঠার কারণে এখন গ্রোয়ার্স মার্কেটগুলোকে আর ব্যবহার করছে না। এখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় তাহলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব মার্কেট রক্ষা করা সম্ভব হবে। খোচাবাড়ী বাজারের দোকানদার আব্দুস সালাম জানান, এই মার্কেটটি করা হয়েছে কৃষকদের জন্য কিন্তু কোন তদারকি বা রক্ষণাবেক্ষণের কেউ না থাকায় এগুলো এখন পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। তবে মার্কেটগুলো সংরক্ষণের ও চালুর ব্যবস্থা করা হলে কৃষক এখানে বাজার বসিয়ে লাভবান হতে পারবে। লোহাগাড়া বাজারে বাজার করতে আসা মসলেম উদ্দীন জানান, আমরা বাজারে যে সকল কাঁচা বাজার করছি তা কৃষকের কাজ থেকে পাইকার কেনার পর আমরা ক্রয় করছি। এতে দামও বেশি দিতে হচ্ছে এবং তাজা সবজিও পাচ্ছি না। এই মার্কেট চালু হলে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি আমরা সবজি কম মূল্যে ক্রয় করতে পারব। জেলায় অনেকে অভিমত দিয়েছেন যে, এই সকল কৃষি বাজার যদি পুনরায় চালু করা যায়, তাহলে একদিকে যেমন কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ভাল দাম ও সংরক্ষণ করতে পারবে অপরদিকে ভোক্তা তার গুণগত পণ্য ক্রয় করতে পারবে। তাই প্রয়োজনীয় সংখ্যক গুদাম ও হিমাগার তৈরি করে ধান-চাল, গম-ভুট্টা, শস্যাদিসহ তরিতককারী, ফলফলাদি, শাকসবজি ইত্যাদি সংরক্ষণ করা হলে এ সংরক্ষণের দ্বারা একদিকে যেমন দেশের চাহিদা পূরণ সম্ভব । পাশাপাশি তা বিদেশে রফতানী করে কোটি কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। ঠাকুরগাঁও জেলা মার্কেটিং অফিসার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০০১ সালে এনসিডিপি প্রজেক্ট এর মাধ্যমে এই মার্কেটগুলো তৈরি করা হয়। কিন্তু এই প্রজেক্ট ২০০৮ সালে শেষ হওয়ার পর থেকে মার্কেটগুলো আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যায়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অনেকবার এই মার্কেটগুলো চালুর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও আর চালু করা সম্ভব হয়নি।

আপনার মন্তব্য লিখুন