আদিতমারীতে খাস জমি লিজ দিচ্ছেন প্রভাবশালীরা, রাজস্ব বঞ্চিত সরকার

Share This
Tags

aditmari-land-pic-1

আদিতমারী(লালমনিরহাট) প্রতিনিধি ঃ লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দূর্গাপুর শঠিবাড়ি হাটের সরকারী খাস জমি পেশী শক্তি দেখিয়ে দখলে নিয়ে মোটা অংকে লিজ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানা গেছে, দুর্গাপুর ইউনিয়নের শঠিবাড়ি হাটে ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য এক একর ২ শতাশ জমিতে প্রতিষ্ঠিত বাজারটি ২ বছর আগে সেট ঘর নির্মান কাজ শুরু করে সরকার। এ সময় ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান ঘর সাময়িক সময়ের জন্য অন্যত্রে সড়িয়ে নেন। এটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় ব্যবসায়ীদের।
সম্পুন্ন কাজ শেষ না হতেই গত ৪ মাস আগে নবনির্মিত সেটঘরগুলোর উদ্বোধন করেন সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মদ। গত সপ্তাহে কাজ শেষ হলে ব্যবসায়ীরা স্ব স্ব স্থানে ব্যবসার প্রস্তুতি নিলেই হাটের ইজারাদার তাতে বাঁধা প্রদান করে।
এ সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অবৈধ্য সুযোগ ছাড়া কাউকেই পজেশন দেয় নি বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। শুধু তাই নয় সেট ঘরের দক্ষিণ পাশ্বে পরিত্যাক্ত খাস জমিটিও লিজ দিতে শুরু করেছে ইজারাদার ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহল।
ওই বাজারের নুর আমিন(৪৮) অভিযোগ তুলে জানান, সেট ঘরের পাশ্বে পরিত্যাক্ত জমিটিতে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে গলামালের দোকান করে আসছেন তিনি। যা সরকারী ভাবে লিজ নেয়ার জন্য আবেদনও করেছেন। কিন্তু সেই জমিটুকু ২২ হাজার টাকার বিনিময়ে সামিউল নামে এক ব্যবসায়ীকে ঘর করার অনুমতি দিয়েছেন ইজারাদার আমিনুল ইসলাম।
অপর এক ব্যবসায়ী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রফিকুল ইসলামের গলামালের দোকানের জায়গাটুকু প্রকাশ্যে নিলামে তুলেছে ইজারাদার। ওই জায়গাটুকু এখন পর্যন্ত ৩০হাজার টাকা দর উঠেছে। রফিকুল ইসলাম জানান, ছেলে মেয়েদের লেখাপড়াসহ ৫ সদস্যের সংসারের চালিকা শক্তি এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি। জায়গার অভাবে ব্যবসা বন্ধ রেখেছেন তিনি। শুধু তাই নয় দীর্ঘ ২৫ বছরের ব্যবসায় ওই বাজারে বকেয়া রয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। দোকান ঘর না থাকলে সে টাকা উত্তোলন করাও সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
একই অভিযোগ ওই বাজারের আশরাফুল আলম, মমিন উদ্দিন, লাভলু, আতি হোসেন, শাহ আলমসহ অনেকে জানান, যারা মোটা অংকে টাকা দিচ্ছে তাদেরকে জায়গা দিচ্ছে ইজারাদার। টাকা না দেয়ায় তাদের জায়গা অন্যদের কাছে বিক্রি করেছে ইজারাদার। এর প্রতিবাদ করলে ইজারাদারের লাঠিয়াল বাহিনীর খড়গ নামে ব্যবসায়ীদের উপর। এমনটাই অভিযোগ তাদের।
শঠিবাড়িরহাট লাগোয়া দুর্গাপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিস। অফিসে বসেই দেখা যায় সরকারী খাস জমি দখল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে এর কোন প্রতিকার করা হয় নি। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে ওই ভুমি অফিস থেকে একটি পত্র পাঠানো হয় উপজেলা ভুমি অফিসে। সেখানে বলা হয়েছে বাজারের খাস জমি দখল করে দোকান ঘর করছেন ব্যবসায়ীরা।


দুর্গাপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহশিলদার(ভার) রোকন উদ্দিন সাংবাদিকে জানান, বাজারের জমিতে ঘর করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু নিষেধ অমান্য করে ঘর করায় উপজেলা ভুমি অফিসকে জানানো হয়েছে। ইজারাদার পেশী শক্তি দেখিয়ে এমনটা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শঠিবাড়িহাটের ইজারাদার আমিনুল ইসলাম টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে প্রতিনিধিকে জানান, বাজারের সৌন্দর্য বর্ধন করতেই দোকান ঘরগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়ানো হচ্ছে। এর বাহিরে তিনি কোন মন্তব্য করেন নি।


আদিতমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল খায়রুম প্রতিনিধিকে জানান, বিষয়টি শুনেছি। খাস জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে সংশ্লিষ্ঠ ইউনিয়ন ভুমি অফিসকে বলা হয়েছে। সেই সাথে ইজারাদারের বিষয়টিও খতিয়ে দেয়া হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন