Published On: মঙ্গল, ডিসে ২৭, ২০১৬

বীরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি জমির ক্রেতারা হয়রানীর শিকার

Share This
Tags

oniom

সিদ্দিক হোসেন দিনাজপুর প্রতিনিধি: বীরগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রী অফিসটি ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। জমির ক্রেতারা এই অফিসের মুষ্টিময় কয়েকজন দুর্নীতিবাজ দলিল লেখক ও কর্মচারীদের দুর্নীতির কারণে চরম হয়রানী শিকার হচ্ছেন। দীর্ঘদিন থেকে এই অফিসে দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ থাকলেও দেখার কেউ নেই। ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, বীরগঞ্জ দলিল লেখক সমিতি ও সাব-রেজিস্টারের নাম ভাঙ্গিয়ে সরকারী নিয়মের নির্ধারিত ফি ছাড়াও সেরেস্তা, লেট ফি, কমিশন ফি, খাজনা-খারিজের অস্পস্টতার অজুহাত এবং অফিস খরচের নামে দলিল প্রতি সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। চাহিদামতো অর্থ পরিশোধ না করলে দলিল সম্পাদন করা হয়না। প্রতিদিন দলিল রেজিস্ট্রি করার সরকারি বিধান থাকলেও এখানে সে নিয়মের কোনো তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না। প্রতি সপ্তাহে শুধু বুধবার বিকাল ৪টার পর থেকে বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। অথচ এখানে প্রতি কার্য দিবসে ২ শত থেকে ৩ শত দলিল রেজিস্ট্রির জমা হচ্ছে। সঠিক সময়ে দলিল জমা প্রদান করলেও অজ্ঞাত কারণে এসব দলিল লেট ফি নিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। আর লেট ফি হিসাবে দলিল প্রতি অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে ৫ শত টাকা। অভিযোগ রয়েছে গ্রাম থকে আসা জমি ক্রেতা ও বিক্রেতাকে জমির পরিমাণ কম অথবা বেশি করে দলিল রেজিস্ট্রি করে দেয়া, জাল দলিল সম্পাদন করা, কবলা দলিলকে হেবা মূলে পরিণত করা, ভলিউম বইয়ের পাতা পাল্টানো, জাল খারিজ-পর্চা ও ডিসিআর তৈরি করা, দাতা গ্রহীতার ছবি পরিবর্তন করা সহ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সম্পন্ন করছে সংঘবদ্ধ একটি দুর্নীতিবাজ চক্র। বীরগঞ্জ পৌরসভার মধ্যে ১ লক্ষ টাকা দলিল সম্পাদন করতে সরকারি খরচ হয় ১০ হাজার টাকা দলিল লেখক সমিতি জমির ক্রেতাদের নিকট থেকে আদায় করেন ১৯ হাজার টাকা। পৌরসভার বাইরে ১ লক্ষ টাকা দলিল সম্পাদন করতে সরকারি খরচ হয় ৯ হাজার টাকা ক্রেতাদের নিকট থেকে দলিল লেখক সমিতির দলিল লেখকরা আদায় করেন ১৭ হাজার টাকা। দলিল লেখক সমিতির নির্ধারিত ফির ১ টাকা কম হলেও তারা দলিল সম্পাদন করেন না। জমির ক্রেতারা বীরগঞ্জ সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বাধ্য হয়ে তাদের নির্ধারিত ফি দিয়ে জমি রেজিষ্ট্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। বীরগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষের সাক্ষর ছাড়া সাব-রেজিষ্ট্রার দলিল সম্পাদন করেন না। জানা গেছে দলিল লেখকরা দলিল তৈরি করে কোষাধ্যক্ষের নিকট টাকা সহ জমা দেন তারপর কোষাধ্যক্ষের মনোনিত ব্যক্তিকে দিয়ে দলিলটি সাব-রেজিষ্ট্রারের নিকট জমা করার পর সাব-রেজিষ্ট্রার দলিল সম্পাদন করেন। এব্যাপারে বীরগঞ্জ সাব-রেজিস্টার মোঃ জহুরুল হকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আপনার কিছু লেখা থাকলে লেখতে পারেন, আমার কিছু যায় আসে না। এই টাকা আমি একাই নেইনা জেলা রেজিষ্ট্রার থেকে শুুুুরু করে আইজি পর্যন্ত গ্রহণ করে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী জমির ক্রেতারা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন