জিপিএ-৫ ও পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে!

Share This
Tags

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট:

http://newsbdn.com

৮টি বোর্ডে ১৯ লাখ ৯৩ হাজার ৩১৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪৯৬ জন। গত বছর পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ২৯ হাজার ৯৯ জন, পাস করেছিল ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৭৭০।

এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৬৪ হাজার ২১৭ জন, পাসের সংখ্যা বেড়েছে ৭০ হাজার ৭২৬ জন। গতবছর পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৩১ শতাংশ এবার পাস করেছে ৯২ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

মাদ্রাসা বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থী ছিল ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৪৭৯ জন। পাসের হার ৯৪ দশমিক ০২ শতাংশ। গত বছর শিক্ষার্থী ছিল ৩ লাখ ৪৩ হাজার ১৯০ জন, পাস করেছিল ৩ লাখ ১৭ হাজার ৩১২ জন। এবার শিক্ষার্থী বেড়েছে ১০ হাজার ৪৫৩ জন, পাসের সংখ্যা বেড়েছে ১৫ হাজার ১৬৭ জন।

এবার জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় ১০ লাখ ৯৬ হাজার ৫২২ জন ছাত্র অংশ নেয়, এর মধ্যে পাস করেছে ১০ লাখ ১৮ হাজার ৯১৯ ছাত্র। অন্যদিকে ১২ লাখ ৫০ হাজার ৪৩৭ ছাত্রীর মধ্যে ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৬ জন পাস করেছে। এবার ছাত্রদের তুলনায় ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ জন বেশি ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়। ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৩৭ জন।

এবার ছেলেদের পাসের হার ৯২ দশমিক ৯২ শতাংশ। আর মেয়েদের পাসের হার ৯৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। অর্থাৎ ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পাসের হার ০ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার আশানুরূপ ফলে খুশি সবাই। সরকারের পক্ষ থেকে ফলাফলের বিভিন্ন সূচকে সন্তোষ প্রকাশ করে আগামীতে এই ধারা ধরে রাখাসহ গুণগতমান অর্জনকেই চ্যালেঞ্জ মনে করা হচ্ছে। শিক্ষাবিদরাও জোর দিয়েছেন দক্ষতা মূল্যায়নের উপর।

বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী ও অষ্টম শ্রেণির জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এমন প্রতিক্রিয়া সংশ্লিষ্ট সব মহল থেকে।

প্রাথমিক সমাপনীতে পাসের হার ৯৮ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ৮৯৮ জন। ইবতেদায়িতে পাসের হার ৯৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৯৪৮ জন।

জেএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৯২ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯ জন পরীক্ষার্থী। জেডিসিতে পাসের হার ৯৪.০২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ হাজার ৫২৯ জন।

দুই সমাপনী পরীক্ষার পাসের এ হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের অভিনন্দন জানালেও পাসের হার দিয়ে মান যাচাই করবো কিনা- সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, উচ্চ হারে পাসের হারের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মান যাচাই করতে পারছি কিনা- এটা প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে। এটাকে মান যাচাইয়ের সূচক বলা যাবে না।

‘কারণ প্রাথমিক সমাপনীতে দক্ষতাভিত্তিক পরীক্ষা হয় না। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিজেদের মূল্যায়নে এতো পাস হয় না।পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে মেয়েদের ‍পাসের হারকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাশেদা কে চৌধুরী।

‘মেয়েরা ভালো করছে, এতে বৃত্তির একটা প্রভাব আছে। এছাড়া মাধ্যমিকে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ভালো পড়ে। ছেলেরা ঘোরাঘুরি-ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এ বিষয়গুলো দেখতে হবে।

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফল নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুহেনা মোস্তফা কামাল।

বাংলানিউজকে তিনি বলেন, ভালো, অনেক ভালো। অধিকাংশ সূচকে পজেটিভ। গত বছরের তুলনায় যদিও পাসের হার একটু কমেছে, ট্রেন্ড পজেটিভ, ইটস ইনক্রেজিং।আর সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, বেশি পাস করানো বা নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার কোনো নির্দেশনা নেই।

অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল প্রত্যাশার স্তরের পৌঁছেছে বলে মনে করেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান। জেএসসি-জেডিসির ফল ভালো, প্রত্যাশার পর্যায়ে গেছে। পাসের হার বাড়ছে। তবে আরও বেশি গুণগত মান অর্জন করতে হবে। গুণগত মান এগিয়ে নেয়াটাই চ্যালেঞ্জ। সব পর্যায়ে গুণগতমান বাড়ানোটাই বড় চ্যালেঞ্জ।

ফল প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, সব সূচকেই ইতিবাচক ফল দেখা যাচ্ছে। তারপরেও একে আমরা সন্তুষ্টির কথা বলছি না।

তিনি বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েদের মান বেড়েছে, কিন্তু বর্তমান যুগে আমাদের চাহিদা অনুসারে যে মান দরকার, বিশ্ব মানের সমতা অর্জন করা দরকার, তার থেকে আমরা অনেক পিছনে আছি।

‘সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছেলেমেয়েদের মান উন্নত করা। সেজন্য গুণগত মানসম্মত নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক দরকার, সেই চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন