লালমনিরহাটে মেলার নামে জুয়ার আসর বসিয়ে জনগন সর্বশান্ত

Share This
Tags

lalmonirhat-picture

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে মেলার নামে জুয়ার আসর বসিয়ে জনগনকে সর্ব শান্ত করা হচ্ছে।আর এই জুয়ার টাকা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে।একদিন ভাগ না পাওয়ায় জুয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।পরে ভাগ পাওয়ার পর আবারও জুয়া শুরু হয়েছে। এই লটারী গ্রামে গঞ্জে বিক্রি হচ্ছে।মানুষ এখন আর সুস্থ নেই,অসুস্থ হয়ে পড়েছে।বিএনপি’র আমলে সুস্থ মেলার আয়োজন করা হয়েছিল।এখন মানুষকে হুমকী স্বরুপ রাখা হয়েছে।গত রোববার ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ছাত্রদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যদানকালে সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু এসব কথা বলেন।তিনি আরও বলেন,এ সরকারের আমলে মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের মেধার মুল্যায়ন করা হচ্ছে না।ফেনসিডিলের আসরে বসিয়ে মেধাবীদের ধবংস করে দিচ্ছে এ সরকার।এ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে ৩৮৬ জন নেতাকর্মীর রক্ত ঝরেছে।এদের রক্ত যাতে বেথা না যায় এ জন্য এই জালেম সরকারের পতন না হওয়া পযন্ত তিনি সকল নেতাকর্মীকে রাজ পথে থাকার আহবান জানান।জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এ্যাডঃ মহি উদ্দিন আহম্মেদ লিমনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক হাফিজর রহমান বাবলা,যুবদল সাধারন সম্পাদক এম এ হালিম,জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান বাবু ও ছাত্রদল সাধারন সম্পাদক আনিছুর রহমান ভিপি আনিস প্রমুখ। ছাত্রদলের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সকালে এক বর্নাঢ র‌্যালী বের করা হয়।পরে জেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল অফিসে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, লালমনিরহাট পৌরসভার উদ্যোগে কালেক্টরেট মাঠে মাস ব্যাপী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার আয়োজন করা হয়।এ জন্য জেলা প্রশাসনের নিকট থেকে পৌর কর্তৃপক্ষ অনুমোদন নেয়।এ মেলায় শুধুমাত্র বিভিন্ন ষ্টোল, শিশুদের বিনোদনের জন্য ম্যাজিক, সার্কাস, মিত্বকুপ,নাগরদোলা,ট্রেনসহ বিভিন্ন বিনোদনের আয়োজন করা হয়।এই বিনোদনকে জেলাবাসী স্বাগত জানিয়েছিল এবং মেলাটি জনসমুদ্রে পরিনতসহ প্রান বন্ধ হয়ে উঠেছিল।কিন্ত মেলার ৩দিন পর শুরু হয় লটারীর মাধ্যমে জমজমাট জুয়া খেলা । প্রতিদিন প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার লটারীর টিকেট বিক্রি হলেও মাত্র ৪ লক্ষ টাকার প্রাইজ দেয়া হয় জনগনকে।এই লটারীর টিকেট ক্রয় করতে গিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে যুবসমাজসহ সাধারন মানুষ।লটারীর টাকার যোগান দিতে এবং ক্রয় করতে উঠতি বয়সের যুবকরা পরিবারের বিভিন্ন মুল্যবান জিনিসপত্র বিক্রি করছে প্রতিদিন। এ ছাড়াও চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ছোটখাট অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে হরহামেশাই। শুধু শহরে নয় এর প্রভাব পড়ছে গ্রামে গঞ্জে। গ্রামের মহিলারা লটারীর মাধ্যমে স্বর্নের লোভে বাচ্ছাদের খাওয়ার জন্য ডিম বিক্রি করে ও মসজিদের জন্য রাখা মুষ্টির চাল বিক্রি করছেন টিকেট ক্রয় করার জন্য। অনেকে বলছেন, এভাবে লটারীর নামে লক্ষ লক্ষ টাকার জুয়াখেলা চলতে থাকলে এজেলার অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়ার আসংখ্যা রয়েছে বলে সচেতন মহল অভিমত ব্যক্ত করেছেন।মেলার নামে বিনোদন, (র‌্যাফেল ড্র’) এবং লটারীর নামে জুয় খেলা কি সমাজের অপরাধ বিবেচিত হচ্ছে না এ বিষয়টি সকলের কাছে অজানার কিছু নয়। লালমনিরহাট পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু বলেছেন, এই মেলার টাকা দিয়ে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের গরীব ও মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের সহযোগীতা করা হবে।এই সহযোগীতাকে কি মানবতা বলা হয়।কারন জনগনের ক্ষতি করে এটা কি ধরনের মানবতা বিষয়টি বিজ্ঞ মহলকে ভাবিয়ে তুেলছে।গরীব ও মেধাবীদের জন্য যদি এই মেলার নামে জুয়া খেলার আয়োজন করা হয়, তাহলে প্রশাসনকে কেন মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করা হয়েছে।এ প্রশ্ন জেলাবাসীর? কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যাক্তি ও প্রশাসনের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা বর্তমান সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য এই অবৈধ কার্যকলাপেমেতে উঠেছে। ইতো মধ্যে সামাজিক মাধ্যম (ফেইসবুকে)এই অবৈধ লটারীর নামে জুয়াখেলার বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার করা সত্বেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহন করাতো দুরের কথা উপরোন্ত প্রতিবাদীদেরকে পুলিশ দিয়ে হেনাস্তা করার চেষ্টা করছে প্রতিনিয়ত । লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মোঃ আলাউদ্দিন খান বলেন,মেলার নামে র‌্যাফেল ড্র’র অনুমতি না থাকলে তারা এটা চালাতে পারবে না।তবে তিনি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগদেয়ার জন্য পরামর্শ দেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন