হাতীবান্ধায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বানানোর অপচেষ্ঠার ঘটনা ফাঁস

Share This
Tags

news-pic-hatibandha

লালমনিরহাট নিজস্ব প্রতিবেদক: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মুক্তিযোদ্ধা কোঠার বিশেষ সুবিধা নিতে ভাইয়ের ছেলেকে নিজের সন্তান বানানোর অপচেষ্ঠার ঘটনা ফাসঁ হওয়ায় বিষয়টি এলাকায় আলোচিত হয়ে উঠেছে।
জানাগেছে, উপজেলার টংভাঙ্গা গ্রামের ৩ ছেলে ১ মেয়ের জনক মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম হোসেন কাগজ কলমে তার আপন ভাই আছির উদ্দিনের ছেলে রুবেল হোসেনের পিতা সেজেছেন। আর তা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সেজে দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা বৃত্তি তুলছেন অনার্স পড়–য়া রুবেল । এমনকি, ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকুরি পেতে ইতোমধ্যে স্কুল ও কলেজের সনদেও রুবেলের পিতার নাম বসানো হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম হোসেনের নামে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারিবারিক কলহের জের ধরেই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বানানোর এই অভিনব কৌশলের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়।
রুবেল হোসেন বর্তমান রংপুর কারমাইকেল কলেজে ব্যবস্থা বিভাগে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র হিসেবে অধ্যায়ন করছে। সে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসাবে ইতোমধ্যে ভারতীয় হাইকমিশনের দেয়া শিক্ষা বৃত্তির ৪৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাস্টের বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বৃত্তির অংশ হিসেবে প্রতিমাসে ১ হাজার করে টাকাও পেয়েছেন রুবেল হোসেন।
সম্প্রতি পারিবারিক ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম আর তার ছোট ভাই আছির উদ্দিনের মাঝে বাকবিতন্ড শুরু হলে রুবেল তার জন্মদাতা পিতা আছির উদ্দিনের পক্ষ নেয়। আর সেকারণেই ক্ষিপ্ত হয়ে খোদ ইব্রাহীম হোসেনই রুবেলের মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়ার কৌশলটি ফাঁস করে দেন । শুধু তাই নয়, এনিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম তার ভাইপো রুবেলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা বৃত্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ভারতীয় হাইকমিশন ও মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাস্টে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাতীবান্ধা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক ও স্কুল শিক্ষক রোকনুজ্জামান সোহেল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এভাবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বানানোর কৌশল নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। কারণ এতে শুধু রুবেলেরই ক্ষতি হবে না, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের প্রতিও মানুষজন বিশ্বাস হারাতে পারে!
একই কথা বলেন টংভাঙ্গা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নূরল আমিন। তবে তিনি এসব ঘটনার জন্য মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম হোসেনকে দায়ী করেন। কারণ নিজের ভাতিজাকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বানিয়ে বিশেষ সুবিধা নেয়ার কৌশলটি মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম হোসেনই শিখিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডারের এমন মন্তব্যের সত্যতা মিলে খোদ রুবেল হোসেন নামের ওই কলেজ ছাত্রের সাথে কথা বলে। তিনি মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘প্লিজ বিষয়টি নিয়ে কিছু লিখবেন না। আমার জ্যাঠা আপনার সাথে দেখা করবে।’ পরে অবশ্য বিভিন্ন প্রশ্নে উত্তরে রুবেল বলেন, ‘আমি যখন ছোট ছিলাম। ঠিক তখন থেকেই তিনি (মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম) আমার বাবা সেঁজেছেন। আর ভারতীয় হাইকমিশন থেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে এখন পর্যন্ত শিক্ষা বৃত্তির যে ৪৮ হাজার টাকা পেয়েছি, তার অর্ধেক হিসেবে ২৪ হাজার টাকা মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম নিয়েছে বলে দাবি রুবেলের। এমনকি মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাস্টের বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা বৃত্তির টাকার ভাগও তিনি নিয়েছেন বলে জানায় মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীমের ভাইপো রুবেল হোসেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন