বীরগঞ্জে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারে কমছে জমির উর্বরতা শক্তি

Share This
Tags

Dinajpur Pic Y 1

সিদ্দিক হোসেন দিনাজপুর প্রতিনিধি :দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার কৃষকেরা আবাদি জমিতে চাহিদার চেয়ে ব্যবহার করছে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার। এতে নষ্ট হচ্ছে মাটির উর্বরতা ও গুণগতমান। ফলে মাটি হয়ে উঠছে রাসায়নিক সার নির্ভর। মাটির উর্বরতা বাড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাসিয়াম। আর পরিমাণ মত ব্যবহার করা হচ্ছে না ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, আয়রণ, কপার সহ ১৩টি উপাদান। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার ৩৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। প্রতিবছর এ জমিতে কৃষক ধান, পাট, গম, ভুট্টা সরিষা, আলু, টমেটো, বেগুন, মরিচ, চিনাবাদাম, মুগ, মুসুর, ছোলা সহ নানা জাতের শাকসবজি চাষ করে। এই জমিতে প্রায় ৩৫ হাজার মেট্টিকটন রাসায়নিক সারের চাহিদা রয়েছে। তবে কৃষি অফিসের এই চাহিদার তুলনায় কৃষক জমিতে দিগুন হারে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছে। কিন্তু কৃষি জমিতে অধিক হারে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার কখনই মাটির জন্য ভাল নয়। তারপরও জমিতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ঘাটতি মেটাতে জৈব সারের পাশাপাশি রাসায়নিক সার ব্যবহার করছে। এর মধ্যে একক ভাবে ইউরিয়া সারের ব্যবহার করছে সব চেয়ে বেশি। এতে মাটিতে আর কিছুই থাকে না। তবে মাটিতে জৈব উপাদান কিংবা জৈব সারের যে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তা মেটাতে হবে। জমিতে চাষাবাদের সময় একবার সার ব্যবহার করলে সেই মাটির গুণগতমান আর ভাল থাকে না। ফলে পরবর্তীতে চাষাবাদ করতে হলে আবারো বার বার সার প্রয়োগ করতে হয়। জমিতে অধিক পরিমাণ সার ব্যবহারের ফলে জমির মাটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মাটিতে জৈব কার্বনের পরিমাণ আশংকাজনক হারে কমে যাচ্ছে। সারে ব্যবহৃত হচ্ছে উচ্চ মাত্রায় রাসায়নিক পদার্থ। ফলে ভূমির অর্গানিক উর্বরতা কমে যাচ্চে। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য ৬টি উপাদান দেয়া প্রয়োজন। কিন্তু কৃষকরা জমিতে নাইট্রোজেন ফসফরাস ও পটাসিয়াম বেশি ব্যবহার করে। আর ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, আয়রণ, কপার, ম্যাঙ্গনিজ সহ বাকী উপাদান গুলো দেয় না। এগুলো না দেয়ার ফলে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে। এ উপজেলায় প্রতিবছর যে পরিমাণ শাকসবজি উৎপন্ন হয়, তার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মাত্রারিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। মাত্রারিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ফসলী জমিও হারাচ্ছে উর্বরা শক্তি

আপনার মন্তব্য লিখুন