Published On: শনি, জানু ২৮, ২০১৭

রয়েল বেঙ্গল টাইগারদের সঙ্গে দেখা করে তাদের কথা বলা উচিত- প্রধানমন্ত্রী

Share This
Tags

PM-IDEB-

চট্টগ্রাম:  যারা রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতা করছে মানুষের জন্য তাদের কোনও দুঃখ নেই মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রয়েল বেঙ্গল টাইগারদের সঙ্গে দেখা করে তাদের কথা বলা উচিত। তাদের জেনে নেওয়া উচিত যে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য রয়েল বেঙ্গল টাইগারের কোনও সমস্যা হবে কিনা।

তিনি বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সর্বাধুনিক আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই এর কারণে পরিবেশের কোনও ক্ষতি হবে না।

পরিবেশের কথা চিন্তা করে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের আশেপাশে পাঁচ লাখ গাছ লাগানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

চট্টগ্রামে ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইবি) ৫৭তম কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ব্ক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুঃখের কথা, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন আপত্তি তোলা হচ্ছে। প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে, এর কারণে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’ কিন্তু প্রস্তাবিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটির কারণে সুন্দরবনের কোনও ক্ষতি হবে না আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্প এলাকাটি সুন্দরবন থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে পশুর নদীর তীরে ডোবা ভরাট করে নির্মাণ করা হচ্ছে। ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ যে জায়গায় অবস্থিত, তার থেকে ৬৫-৭০ কিলোমিটার দূরে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবস্থান। তাই এই প্রকল্পের কারণে সুন্দরবনের কোনও ক্ষতি হবে না।’

রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিবেশের ওপরও কোনও বিরূপ প্রভাব ফেলবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে যে চিমনি ব্যবহার করা হবে তা সর্বোচ্চ উচ্চতার মানের। এখান থেকে যে ছাই উৎপন্ন হবে তা কিনে নেবে সিমেন্ট কারখানাগুলো। এখানে কয়লা আনা হবে ঢাকনাযুক্ত কন্টেইনারে। তাছাড়া, সরকার রামপাল প্রকল্পের আশেপাশে পাঁচ লাখ গাছ লাগানোর প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে দেড় লাখ গাছ লাগানো হয়ে গেছে। তাই রামপাল প্রকল্পের কারণে পরিবেশের কোনও ক্ষতি হবে না।’

ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইবি) ৫৭তম কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভপতিত্ব করেন সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মোহাম্মদ কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সবুর।

আপনার মন্তব্য লিখুন