সংবাদ প্রকাশের পর, রাতারাতি পাল্টে গেলো স্কুলের দৃশ্যপট

Share This
Tags

School-1900x1359_c

লালমনিরহাট প্রতিবেদক: “পাটগ্রামে নামে আছে কাজে নেই স্কুলের জন্য ‘জাতীয়করণের’ পাঁয়তারা!” হেড লাইনে ১৯ জানুয়ারি নিউজ প্রকাশিত হবার পর রাতারাতি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় জোংড়া ইউনিয়নের রহিমা নগর বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের দৌড়ঝাঁপে দৃশ্যপট পাল্টে যায়।

রহিমা নগর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝোলানো হয়েছে নতুন সাইনবোর্ড। নতুন করে নির্মান করা হয়েছে বড় একটি টিনের ঘর। চলছে জানালা-দরজা তৈরীসহ অন্যান্য কাজ।

সরেজমিনে দেখাগেছে, রাস্তার পাশেই ঝুলানো হয়েছে বিদ্যালয়ের নতুন সাইনবোর্ড। নতুন করে নির্মান করা হয়েছে একটি টিনের ঘর। ভিতরে চলছে ওই নির্মাণাধীন ঘরের অন্যান্য কাজ। ঘরের সামনে একটি কাঁচা বাঁশের ফ্লাক ষ্টান্ডে উড়ছে জাতীয় পতাকা। ঘরটির সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থীর দেখা মিললো।

কথা হয় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা আক্তার নূরী সাথে তিনি দাবী করেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই শতাধীক। তিনি আরও জানান,বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার প্রায় চব্বিশ বছর হলেও নানা জঠিলতার কারণে পাঠদান সম্ভব হয়নি। এখন নতুন করে বিদ্যালয়টির ঘর নির্মান হয়েছে, অন্যান্য কাজও চলছে। বিদ্যালয়টি পাঠদান উপযুগি করে তুলতে আমরা সার্বিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির খন্দকার রাজু বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আমাদের কাছে কাগজপত্র চেয়েছে তাই আমরা কাগজপত্র দিয়েছি। ইতোমধ্যে ‘গ’ গ্রেড (তৃতীয় ধাপ)‘র তালিকা ভুক্ত হওয়া শুধু আমাদের স্কুলেই নয়, উপজেলার মোট ৩০টি স্কুলেরই প্রায় একই অবস্থা বলে দাবী করেন তিনি।

ওই এলাকার দুলাল মিয়া জানান, বিদ্যালয় নামের সেই বেড়া বিহীন ঘরটি নির্মানের দীর্ঘদিন হলেও পাঠদানতো দুরের কথা,সেখানে গরু-ছাগল রাখা হত। আর ওই বিদ্যালয়টি দেখিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যে মেতে উঠেছে কতৃকপক্ষ।

উলেখ্য,কাগজে-কলমে রহিমা নগর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৩ সালে  প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও গত ২৪ বছরের সেখানে হয়নি কোন প্রকার পাঠদান। নেই কোন ছাত্র-ছাত্রী। আর যাদেরকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের ২/১ জনকে নিয়েও আছে বিস্তর অভিযোগ।  এত কিছুর পরেও রহিমা নগর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামের ওই সাইনবোর্ড সর্বস্ব স্কুলকে ‘জাতীয়করণের’ অপচেষ্ঠা চলছে বলে জোড়ালো অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাই আগামীতে তৃতীয় ধাপে ‘জাতীয়করণের’ সুযোগ নিতেই দৌঁড়ঝাপ শুরু করেন পাটগ্রামের ওই স্কুলের সংশ্লিষ্ট পরিচালনা কমিটিসহ শিক্ষকরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন