Published On: মঙ্গল, মার্চ ১৪, ২০১৭

সাধারণ ব্যাংকগুলো ‘ইসলামি শাখা’ গুটাচ্ছে

Share This
Tags

Islami-bank-1900x1041_c

ঢাকা: প্রত্যাশিত মুনাফা করতে না পারার কারণে দেশে সাধারণ ব্যাংকগুলোর ইসলামি শাখার কার্যক্রম ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে। গত বছর নয় মাসের ব্যবধানে সাধারণ বা কনভেনশনাল ব্যাংক তিনটি ইসলামি শাখা বন্ধ করে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছরের ব্যবধানে কনভেনশনাল ব্যাংকে ইসলামি শাখা বন্ধের হার ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নানা কারণে কনভেনশনাল ব্যাংক নিজেরাই বিপদে আছে। রেমিট্যান্সের অবস্থাও ভালো নয়। এ কারণে কনভেনশনাল ব্যাংকের ইসলামি শাখাগুলো হয়ত গুটিয়ে নিতে হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে ২৫টি ব্যাংকে ইসলামি ব্যাংকিং করছে। যার মধ্যে ৮টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক এবং ১৭ বাণিজ্যিক ব্যাংক সাধারণ ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ইসলামি ব্যাংকিংও পরিচালনা করে। এর মধ্যে ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ২১টি শাখায় ইসলামি ব্যাংকিং করতো ৯টি কনভেনশনাল ব্যাংক। গত ডিসেম্বরেএই ব্যাংকগুলোতে ইসলামি শাখার সংখ্যা নেমে আসে ১৮টিতে। অর্থাৎ ৯ মাসের ব্যবধানে ৩টি ইসলামি শাখা বন্ধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘যারা পুরোপুরি ইসলামি ব্যাংকিং করছে, তারা খারাপ করছে না। তবে কনভেনশনাল ব্যাংকগুলো মুনাফা করতে না পেরে ইসলামি শাখা গুটিয়ে নিচ্ছে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ মাসে কনভেনশনাল ব্যাংকের তিনটি ইসলামি শাখা বন্ধ হলেও পুর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকগুলো শাখা বেড়েছে। গত এক বছরের ব্যবধানে ৮ ব্যাংকের শাখা বেড়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ৮ ব্যাংকে মোট আমানত রয়েছে এক লাখ ৭৮ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা। এছাড়া, একই সময় পর্যন্ত এইব্যাংকগুলো মোট বিনিয়োগ করেছে এক লাখ ৬০ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা। এই ৮ ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৯ হাজার ৭৮ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে ইসলামি শাখায় কাজ করা ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছেন। এক বছর আগে কনভেশনাল ব্যাংকের ইসলামি শাখায় কাজ করতেন ৪২১ জন। এখন সেখানে কাজ করেন ৩৯৫ জন। একবছরের ব্যবধানে এসব শাখা থেকে ২৬ জন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামি ব্যাংকগুলোতেও রেমিট্যান্স প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ৯ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকার রেমিট্যান্স আসলেও ২০১৬ সালের ডিসেম্বর শেষে রেমিট্যান্স এসেছে ৯ হাজার ১৬৯ কোটি টাকার। এক বছরের ব্যবধানে ৬০৯ কোটি টাকার রেমিট্যান্স কমে গেছে। এরমধ্যে কনভেশনাল ব্যাংকের ইসলামি শাখায় কমেছে ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোতে মুনাফার প্রবৃদ্ধি ক্রমেই নেতিবাচক হচ্ছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে এই ব্যাংকগুলো নিট মুনাফা করেছিল দুই হাজার ৬২৪ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর শেষে এই ব্যাংকগুলো মুনাফা করেছে ১ হাজার৬৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৯ মাসের ব্যবধানে মুনাফা কমেছে ৯৬০ কোটি টাকা।

বর্তমানে বাংলাদেশে যেসব ব্যাংক পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলামি নামে কার্যক্রম চালাচ্ছে এগুলো হলো ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, আল-আরাফাহ ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড, এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড, সোস্যাল ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড, শাহ্জালাল ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড, ফার্স্টসিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড, ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইসলামি শাখাগুলোতে মোট আমানত রয়েছে এক লাখ ৮৭ হাজার৬৯৪ কোটি টাকা। এছাড়া, একই সময় পর্যন্ত মোট বিনিয়োগ করেছে এক লাখ ৬৮ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা।

আপনার মন্তব্য লিখুন