ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার প্রয়োজন : শিক্ষামন্ত্রী

Share This
Tags

nahid- New

ঢাকা: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ইসলামী শিক্ষার উন্নতির পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষা অর্জনের প্রয়োজন আলেমদের। এর ফলে তারা শুধু আলেমের মধ্যেই সীমাবন্ধ থাকবে না। তারা সচিব, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিসিএস ক্যাডার হয়ে উঠবে। দেশ পরিচালনা করবে।
আজ শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) অডিটরিয়ামে ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘ফাজিল অনার্স শিক্ষার মান উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি মন্তব্য করেন।

গুলশান-শোলাকিয়াসহ দেশের বিভিন্নস্থানে জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মানুষ মারলেই বেহেস্তে যাওয়া যাবে, হুরপরি পাওয়া যাবে বলে যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে এবং কুমন্ত্রনা দিয়েছে এখন তারা নিজেরাই প্রাণভিক্ষা চাচ্ছে। ছেলে-মেয়েরা যাতে জঙ্গিবাদে জড়িত না হয় কিংবা বিপথগামী না হয় সেজন্য শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সমাজের সবাইকে সচেতন থাকারও আহ্বান জানান মন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসা জঙ্গিবাদের কারখানা এটি সঠিক নয়। আপনারা এই কথা মো্টেও বলবেন না। কারণ গুলশান হামলার সঙ্গে জড়িতরা উচ্চবিত্ত ও উচ্চশিক্ষিত ছিল। ছেলে-মেয়েরা যাতে জঙ্গিবাদ বা বিপথগামী না হয় সেজন্য শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সমাজের সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, ইসলামি আরবী বিশ্ববিদ্যালয় চালুর শুরুতে ৩১টি মাদ্রাসায় অনার্স কোর্স ছিল। বর্তমানে তা ৫২টিতে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে ১ হাজার ৫৩টি আলিম এবং ২২১টি ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় উচ্চমানের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিধিকে আরও বাড়াতে ৪৮৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে সরকার। যা একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি সারা দেশে ১ হাজার ৩৩২টি নতুন প্রতিষ্ঠানে মাদ্রাসায় ভবন করা হয়েছে জানিয়ে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আরও ১৮শ’ মাদ্রাসায় ভবন তৈরি করার পরিকল্পা নেওয়া হয়েছে। যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো গোডাউনের মতো না থাকে। মাদ্রাসার শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তাদের বেতন বাড়ানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য সুন্দর ও চমৎকার শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আলেম উলামারা সেই বৃটিশ আমল থেকে প্রায় একশ’ বছর ধরে আলাদা আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি করে আসছিলেন। এজন্য তারা লংমার্চ পর্যন্তও করেছিলেন। কিন্তু তাদের এ দাবি পূরণ করেনি কোনো সরকার। আলেম উলামাদের এ দাবি পূরণ করেছে শেখ হাসিনার সরকার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক অধ্যাপক মো. ইলিয়াছ সিদ্দিকী, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের প্রধানসহ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন