Published On: শুক্র, এপ্রি ১৪, ২০১৭

এল বৈশাখ নতুন বারতা নিয়ে

Share This
Tags

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট:

http://newsbdn.com

নতুন দিনের বারতা নিয়ে এল বৈশাখ। বিদায় ১৪২৩ সন। সুস্বাগতম নতুন সন ১৪২৪। যত দুঃখ, জরা, গ্লানি, ব্যর্থতা; সব মুছে ফেলে নতুনের জয়গানে জীবন রঙিন করে তোলার কামনায় বাঙালির  প্রাণের উৎসবের মধ্য দিয়ে শুরু হলো নতুন বছর।

গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জিকে স্থির রেখে প্রতিবছর ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশিরা উদাযাপন করে পহেলা বৈশাখ। বাংলার আপামর জনতার প্রাণের উৎসবকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতেই এ উদ্যোগ। ১৪ এপ্রিল যে শুধু বাংলাদেশেই বাংলা নববর্ষের দিন, তা কিন্তু নয়। বিশ্বের দেশে দেশে কোটি প্রবাসী বাঙালিও এ উৎসবের আয়োজন করে।

হিন্দু-বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলিম, পাহাড়ি-সমতলের সব শ্রেণী, পেশা, বর্ণ, গোত্রের মানুষের কাছেই নববর্ষকে বরণ করে নেওয়ার উৎসব এখন পরিণত হয়েছে সার্বজনীন আয়োজনের অনুষঙ্গে। সম্রাট আকবর খাজনা নেওয়ার সুবিধার্থে এই বাংলা সনের প্রবর্তন করলেও, পহেলা বৈশাখে আজ কোথাও খাজনা নেওয়ার অবকাশ নেই। জমিদারি প্রথার সে চল আর নেই, যে নববর্ষে হবে পূণ্যাহ অনুষ্ঠান। তবে বাঙালি খাজনা দেওয়ার মতো সেই ‘কষ্টের’ দিনকে কালের পরিক্রমায় পরিণত করেছে এক মহোৎসবে।

পহেলা বৈশাখ এখন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বীকৃত অনুষ্ঠানও। বিশ্ব ঐহ্যিতের অংশ মঙ্গল শোভাযাত্রা। পহেলা বৈশাখের উৎসব উপলক্ষ্যে সরকার তার কর্মচারীদের ভাতাও প্রদান করে। যার ধারাবাহিকতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও নববর্ষ উদাযাপনে ভাতা প্রদান করা শুরু করেছে।

ইতিমধ্যে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষ পহেলা বৈশাখ উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। জানা গেছে, প্রতিটি জেলা শহরেই আয়োজিত হবে বৈশাখী মেলা। সকালে বর্ষবরণে শোভাযাত্রা, সঙ্গীতানুষ্ঠান। কোনো কোনো জেলা শহরে মেলার আয়োজন চলবে সপ্তাহব্যাপী।

সমতলের সঙ্গে সঙ্গে থমকে নেই পাহাড়ের আয়োজনও। বরং পাহাড়ের আয়োজন শুরু হয়েছে কয়েকদিন আগে থেকেই। সেখানে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই ও ত্রিপুরাদের বৈসুক উৎসব অর্থাৎ বৈসাবি উৎসব। নতুন বছরের প্রথমদিন আদিবাসীরা গোজ্যপোজ্যে দিন ও বর্ষবরণ উৎসব পালন করবে। এছাড়া পাহাড়ি বাঙালিও আয়োজন করছে প্রথাগত অনুষ্ঠান।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধী দলের নেতা তাদের বাণীতে দেশাবসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়াও দেশবাসীকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে শুভেচ্ছা।

ঢাকায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অনুষঙ্গ হচ্ছে রমনা বটমূলে ছায়ানটের সঙ্গীতানুষ্ঠান। এবার প্রতিষ্ঠানটি সরোদ বাদনের মাধ্যমে সকাল ৬টা দশ মিনিটে অনুষ্ঠান শুর করবে। মানবতার বারতা ছড়িয়ে দেওয়ার মূলমন্ত্র নিয়ে এবার তাদের পরিবেশনার মধ্যে রয়েছে আনন্দ, মানবতা আর কালজয়ী গান। এক্ষেত্রে রাখা হয়েছে পঞ্চ কবীর গাণও।

আপনার মন্তব্য লিখুন