চামড়ার দাম কম, নেই মৌসুমী ব্যবসায়ীদের উপদ্রব

Share This
Tags

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 http://newsbdn.com

পবিত্র ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা পশু কোরবানি। সকালে ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে গরু কিংবা ছাগল কোরবানি শুরু হয়।

সাধারণত কোরবানি করা পশুর চামড়া সংগ্রহে মাদ্রাসা কিংবা এতিমখানার সঙ্গে পাড়ায় মহল্লায় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু চামড়ার মূল্য কম থাকায় এবারে কোরবানির ঈদে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের উপদ্রব নেই বললেই চলে।

শনিবার রাজধানীর ওলি-গলি ঘুরে দেখা গেছে গরুর চামড়া প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকায়। যেখানে গতবছর ওই একই চামড়া বিক্রি হয়েছে ৮০০-৯০০ টাকায়। অন্যদিকে খাসি বা বকরির চামড়া বিক্রি হচ্ছে ২০০-৩০০ টাকায়।

রাজধানীর খিলগাঁও, মালিবাগ, রামপুরা, শান্তিনগর, মধুবাগ ও মীরবাগসহ আশেপাশের এলাকায় ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। মাদ্রাসা বা এতিমাখানার বিভিন্ন ছাত্রদের দেখা গেলেও চোখে পড়েনি মৌসুমি ব্যবসায়ীদের তৎপরতা।

পশুর চামড়া সংগ্রহে ব্যস্ত রয়েছে মীরবাগের জামিয়া দারুস সুন্নাহ ক্বাওমিয়ার (মাদরাসা ও ইয়াতিমখানা) ছাত্র তোফায়েল আহমেদ। একটি ভ্যানগাড়ি ও কয়েকজন সঙ্গি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের জন্য বেরিয়ে পরেছেন চামড়া সংগ্রহে।

প্রতি কোরবানিতে বড় হুজুরের নির্দেশে আমরা চামড়া সংগ্রহে বেরিয়ে পড়ি। বরাবরে মতো এবারও মীরবাগসহ আশপাশের এলাকায় চামড়া সংগ্রহ করছি। সাধারণতঃ গরু বা ছাগলের চামড়া আমাদের দান করে থাকেন বেশিরভাগ মানুষ। যারা বিক্রি করতে চান তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকায় ক্রয় করে থাকি। তবে একটি গরুর চামড়া ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি কম কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমদ বলেন, চামড়ার মূল্য কম থাকায় এলাকায় এলাকায় মৌসুমী ব্যবসার উপদ্রব নেই বললেই চলে। তার ওপর সরকার নির্ধারিত চামড়া মূল্য এবার আরো কম। ফলে এলাকার ছেলেরা আর চামড়া ব্যবসায় নামে না। গতবছর চামড়া ব্যবসায় নেমে অনেকেই লোকসান গুনেছে।

প্রসঙ্গত, এবারে সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকায় গরুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। যা ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। অন্যদিকে খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২০ থেকে ২৫ টাকা, বকরির চামড়ার প্রতি বর্গফুট ১৫ থেকে ১৭ টাকা এবং মহিষের চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ২৫ টাকা।

ওই একই মাদ্রাসার অপর ছাত্র হাসান জানান, প্রতি বছর আমরা চামড়া সংগ্রহ করে হাজারিবাগ ট্যানারিতে দিয়ে আসি। গতবছর আমরা ২৫০টির বেশি চামড়া ট্যানারিতে দিয়ে আসি। তারা আমাদের বিক্রি করে টাকা দিয়ে থাকে। তবে এতিমখানার কথা চিন্তা করে পাকা চামড়া হিসেবে পরে দাম দিয়ে থাকে। নগদ বিক্রি করলে গড়ে একটি চামড়ার দাম ৯০০-১০০০ টাকা। তবে পাকা চামড়ার দাম প্রায় ২০০০ টাকা।

প্রায় একই তথ্য দিয়েছে পশ্চিম হাজিপাড়ার বায়তুল হুদা জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা, হজরত উসমান (রা:) মাদ্রাসা ও মালিবাগ নুর মসজিদ সংলগ্ন কাওমি মাদ্রাসা বিভিন্ন শিক্ষার্থীরা।

ঈদুল আজহায় রাজধানীবাসীর অধিকাংশ নগরীর অলিতে-গলিতে পশু কোরবানি দিয়েছে । অনেকেই সিটি কর্পোরেশন থেকে নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানির ঘোষণা দেওয়া থাকলেও সেই আহ্বানে তেমনটা সাড়া দেয়নি।

এবারে দুই সিটি কর্পোরেশন ১ হাজার ১৭৪টি স্থানে পশু কোরবানির জন্য নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে উত্তরে ৫৪৯টি ও  দক্ষিণে ৬২৫টি।

আপনার মন্তব্য লিখুন