Published On: বুধ, অক্টো ৪, ২০১৭

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পাবে ১৩৭ কোটি টাকার সহায়তা

Share This
Tags

নিজস্ব প্রতিবেদক :

www.newsbdn.com

আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে  ক্ষতিগ্রস্ত ২৪ জেলার ৭ লাখ ৭৬ হাজার ২০২ জন কৃষককে ১৩৬ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫১ টাকার পুনর্বাসন সহায়তা দেবে সরকার।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এ কথা জানান। আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে হাওড়ের ৬ জেলা, দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ১৮ জেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রমের পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয় পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওড়ের ৬ জেলায় (সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ) চলতি পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় বোরো মৌসুমে বিনামূল্যে বোরো ধানের বীজ, ডিএপি ও এমওপি সার দেওয়া হবে। এ অঞ্চলের ৬ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে ১১৭ কোটি টাকার বীজ, ডিএপি ও এমওপি সার এবং নগদ ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন,  ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ১৮ জেলার (নওগাঁ, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুর, নাটোর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট, শেরপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া)  ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে  ১ লাখ ৭৬ হাজার ২০২ জন কৃষককে  ১৯ কোটি ৯৯  লাখ ৯৯ হাজার ৫ ৫১ টাকায় গম, ভুট্টা, সরিষা, চিনাবাদাম, খেসারি, বোরো ধান চাষে বিনা মূল্যে বীজ দেওয়া হবে। এ ছাড়া ডিএপি ও এমওপি সার এবং শাক সবজীর বীজ দেওয়া হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘হাওড়াঞ্চলের ৬ জেলায় কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রমের উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করাসহ এ এলাকায় ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা করা। বর্তমান কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রমে হাওড়াঞ্চলের ৬ লাখ কৃষক প্রতি বিঘা জমি চাষাবাদের জন্য কৃষি উপকরণ বাবদ ৫ কেজি বোরো ধানের বীজ, ২০ কেজি ডিএপি সার, ১০ কেজি এমওপি সার এবং ১ হাজার টাকা নগদ সহায়তা পাবে।’

তিনি বলেন, ‘হাওড়াঞ্চলে কৃষি পুনর্বাসনের  ফলে ৬ লাখ বিঘা জমিতে বোরো ধানের জমি চাষ করা সম্ভব হবে। এতে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৪ হাজার ৪৮ মেট্রিক টন হিসেবে ৩ লাখ  ২৪ হাজার ৪৯৫ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হবে। প্রতি মেট্রিক টন চালের বিক্রয় মূল্য ৪০ হাজার টাকা ধরে ১ হাজার ২৯৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকার চাল উৎপাদিত হবে। প্রতি ১ টাকা ব্যয় করে ১১ দশমিক শূন্য ৯ টাকা আয় করা সম্ভব হবে। এতে ব্যয়ের অনুপাতে আয় হবে ১১ গুণ। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক পুনর্বাসিত হবেন এবং তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।’

মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ১৮ জেলার কৃষি পুনর্বাসনের উদ্দেশ্য হলো ক্ষতিগ্রস্তদের গম, ভুট্টা, সরিষা, চিনাবাদাম, খেসারি ও বোরো ধান চাষে  কৃষকদের উৎসাহিত করা। এ ছাড়া বন্যা, জলাবদ্ধতা, ভূমিক্ষয়, অনাবৃষ্টি, খরা, লবণাক্ততা, শৈত্যপ্রবাহ, ঘনকুয়াশাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে ফসল চাষে কৃষকদের অভ্যস্ত করে তোলা।’

আপনার মন্তব্য লিখুন