Published On: মঙ্গল, নভে ৭, ২০১৭

ইসির ‘ফাইনাল টেস্ট’ নেবে বিএনপি !!

Share This
Tags

নিজস্ব প্রতিবেদক :

http://newsbdn.com

একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ছয়টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দক্ষতা, যোগ‌্যতা ও দায়িত্বের চুড়ান্ত পরীক্ষা নেবে বিএনপি। এসব নির্বাচনে ইসি কি ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেটি পর্যবেক্ষণ শেষে কমিশনের কর্মকান্ড সম্পর্কে  অবস্থান স্পষ্ট করবে দলটি। সে হিসেবে ছয় সিটি নির্বাচনই হতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনের ‘অগ্নি পরীক্ষা’।

বিএনপি নেতারা বলছেন, এরই মধ‌্যে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা যে ধরনের কর্মকান্ড করেছেন, তাতে মানুষের কাছে তারা গ্রহনযোগ‌্যতা এবং আস্থা হারিয়েছেন। এখন তারা (ইসি কর্মকর্তারা) কিভাবে তাদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনেন, সিটি নির্বাচনগুলো সেক্ষেত্রে একটি প্লাটফর্ম হতে পারে।

বিএনপির নীতি নির্ধারনী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস‌্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা যেভাবে কথা বলছেন এবং কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন, তাতে তাদের ওপর মানুষের আর আস্থা নেই। এখন মানুষের কাছে তাদের আস্থা আনতে এই স্থানীয় নির্বাচন এক ধরনের পরীক্ষা। এজন‌্য তারা কি ধরনের পদক্ষেপ নেয় সেটিই দেখার বিষয়।

তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন অনেক সচেতন। তাই গোজামিল দিয়ে কিছু হবে না। কারন নির্বাচন নিয়ে শুধু দেশের মানুষই নয়, বিদেশের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থাগুলোও পর্যবেক্ষন করছে। এখন নির্বাচনে তাদের দায়িত্ব দক্ষতা প্রমাণের।’

আগামী ২১ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ রেখে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছ নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা রোববার রংপুর সিটি নির্বাচনের এই তফসিল ঘোষণা করেন। এই সিটির মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হতে আগ্রহীরা আগামী ২২ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ২৫ ও ২৬ নভেম্বর যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রর্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের আরো পাঁচটি সিটিতেও ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন হবে।

এদিকে দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতিতে না থাকা বিএনপি সিটি নির্বাচনগুলোকে সামনে রেখে চাঙা হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এরই মধ‌্যে দলটির মাঝে প্রাণচাঞ্চল‌্যতা ফিরে এসেছে। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার উখিয়া সফরে এর প্রকাশ ঘটেছে। গত জাতীয় নির্বাচন বর্জন করলেও স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে বিএনপি অংশগ্রহন করছে। দলীয় সূত্র বলছে, আসন্ন নির্বাচনগুলোতেও অংশ নেয়ার মাধ্যমে বিএনপি জনপ্রিয়তা প্রমাণে ছয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেবে। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে এনিয়ে তেমন কার্যক্রম না চললেও মাঠের চিত্র ভিন্ন। এরই মধ্যে রংপুরে সাজ সাজ রব নেতাকর্মীদের মাঝে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, সিটি নির্বাচনে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে নেতাকর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। পাশাপাশি ধানের শীষের জনপ্রিয়তা কতটা এমন একটি বার্তাও সাধারণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাবে। এটি জাতীয় নির্বাচনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।

বিএনপি সূত্রগুলো বলছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে সিটি নির্বাচনগুলোকেই টার্গেট করছে বিএনপি। এজন‌্য বিএনপির নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের যে দাবি তা জাতির সামনে আনতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। বিষয়টি ছয় সিটি নির্বাচনের পরেই উত্থাপন করা হতে পারে।

এদিকে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সীমিতভাবে ইভিএম ব্যবহারের কথা ইসির পক্ষ থেকে বলা হলেও এর সমালোচনা করেছে বিএনপি। ইভিএম নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসা দলটির মতে, ভোটে ইভিএমের ব্যবহার হবে ভুল। গ্রহনযোগ‌্য নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরি ছাড়াই ইভিএম ব‌্যবহারেরও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘যেখানে মানুষ অবাধে ভোট দিতেই পারছে না। সেখানে ইভিএম টেনে আনার কি যৌক্তিকতা থাকতে পারে? আগে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যেসব প্রয়োজনীয় এবং অবশ‌্যই করনীয় রয়েছে সে সব বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। গ্রহনযোগ‌্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির আগে ইভিএম নিয়ে কথা বলার কোনো মানে নেই।’

বিএনপি নেতাদের মতে, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজসহ অন‌্যান‌্য মহলের সঙ্গে সংলাপ করে ইসি কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও সামনে কঠিন সময় আসছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ছয় সিটির নির্বাচন সকলের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা।

সিটি নির্বাচন যে প্রতিষ্ঠানটির জন‌্য বড় ধরনের পরীক্ষা হতে যাচ্ছে তা মানছেন খোদ ইসি কর্মকর্তারাই।

যেমনটি বলছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হবে বর্তমান কমিশনের (ইসি) জন্য ‘স্টেজ রিহার্সেল’। আমরা কোনো ভাবেই এ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দিতে পারি না। সে কারণে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। কেউ যদি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।

তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা সমুন্নত রাখার নির্বাচন। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করতে না পারলে বিশ্ববাসীর কাছে আত্মসম্মান নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো যাবে না। তাই আগামী নির্বাচন হবে আত্মমর্যাদা সমুন্নত রাখার নির্বাচন।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য ‘পরীক্ষার শুরু’ হিসেবে দেখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস‌্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।সিটি করপোরেশনের যে নির্বাচনগুলো সামনে আসবে- তা একাদশ জাতীয় সংসদের পূর্বের নির্বাচন। এটা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য একটি পরীক্ষার শুরু-এই নির্বাচনগুলো আমরা দেখতে চাই। এই পরীক্ষাগুলো তাদের (ইসি), আমরা পর্যবেক্ষণ করব।”

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এসব নির্বাচনই ঠিক করে দেবে- বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হবে, আগামী দিনে বাংলাদেশ কোন দিকে যাবে। সরকার যদি পুনরায় গায়ের জোরে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, আবার যদি ২০১৪ এর মত নির্বাচনের দিকে যায়, তাহলে দেশের মানুষ এবার আর ক্ষমা করবে না। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আজম খান  বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমরা ইসির দক্ষতা, সক্ষমতা দেখতে চাই। এসব নির্বাচনে প্রতিষ্ঠানটির নেয়া পদক্ষেপেই স্পষ্ট হবে তারা জাতীয় নির্বাচনে কেমন করবে। সেজন্য এই নির্বাচনগুলোর আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষন করতে চাই।

আপনার মন্তব্য লিখুন